loading...
Breaking News
Home / রাজনীতি / সংকটের সমাধান রাজপথেই, আলোচনার পথ থেকে সরে আসছে বিএনপি!
সংকটের সমাধান রাজপথেই, আলোচনার পথ থেকে সরে আসছে বিএনপি!

সংকটের সমাধান রাজপথেই, আলোচনার পথ থেকে সরে আসছে বিএনপি!

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা, দলের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে রিমান্ডের নামে নির্যাতন ও মেরে ফেলা, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে সভা-সমাবেশে বাঁধা দেওয়া কিংবা অনুমতি না পাওয়া, নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচনের দাবিকে পাশ কাটাতে আলোচনার আহবানে গুরুত্ব না দেওয়া, দল ও জোটকে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রসহ বেশ কিছু ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে বিএনপি। সংকটের সমাধান শেষমেষ রাজপথে হবে এমনটা ধরে নিয়েই সামনের দিকে এগুচ্ছে। দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতা এমনটা জানিয়েছেন। তবে সব কিছু নির্ভর করছে দলের প্রধানের মুক্তি ও তার সিদ্ধান্তের ওপর।

দলটির দায়িত্বশীল নেতাদের মতে, বিএনপি গত সাড়ে চার বছর ধরে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার কথা বলে আসছে। কিন্তু ক্ষমতাসিনরা তাদের সেই দাবির প্রতি কোনো কর্ণপাত না করে বরং বিএনপির ওপর আরো বেশী চড়াও হচ্ছে। এই অবস্থার মধ্যে দলের চেয়ারপারসনকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে নিয়েছে সরকার। তার মুক্তির দাবিতে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দলীয় প্রধানের মুক্তি নিয়ে সরকার নানা ছলচাতুরি করছে। বিএনপি যত নমনীয়তা দেখায় সরকার ততই বিএনপির ঘাড়ে চেঁপে বসছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীর এক আলোচনা সভায় বলেছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় শেষ, এবার রাজপথেই দেখা হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে। দলমত-নির্বিশেষে অবৈধ ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রাজপথে নেমে আসতে হবে। কার কাছে মুক্তি চাইব এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করব কীভাবে? দেশে তো আইন নেই। নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ নেই, আদালত নেই। তাই আমাদের সামনে একমাত্র পথ খোলা আছে, তা হলো- রাজপথে আন্দোলন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার দমনপীড়ণ নির্যাতন এবং ম্যাডামের মুক্তি নিয়ে যেভাবে ছলচাতুরি করছেন তাতে মনে হয় না সরকার সহজেই জনগণের কথা শুনবে। আমরা দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে যে শান্তিপূর্ণ অহিংস কর্মসূচি পালন করতে চাচ্ছি তাতেও তারা বাধা দিচ্ছে। এভাবে তো চলতে পারে না। তারপরও সরকারের কাছে আমাদের আহবান থাকবে সংকট নিরসনকল্পে আসুন আলোচনায় বসি। শেষ পর্যন্ত সরকার যদি তাতে সাড়া না দেয় তাহলে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান বলেন, এতো নির্যাতন নীপড়ণের মধ্যেও আমরা গত সাড়ে চার বছর ধরে সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি আসুন সংকট নিরসনে আলোচনায় বসুন। কিন্তু সরকার তাতে কোনো কর্ণপাত করছে না। আমাদের দাবির প্রতি কোনো গুরুত্ব না দিয়ে বরং নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়েছে। সব কিছ্রুই তো একটা শেষ থাকে। যদি এভাবে না হয়ে শেষমেষ দাবি আদায়ে আমাদেরকে রাজপথেই জনগণকে সাথে নিয়েই ফয়সালা করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প কি আমাদের হাতে থাকবে?

তিনি বলেন, দলের মহাসচিব সেই অর্থেই আজকে এসব কথা বলেছেন। তবে এবিষয়ে এখনই কোনো চ’ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি। ম্যাডাম কারাগার থেকে বের হয়ে আসার পর দলের পরবর্তী কি করণীয় তিনি সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*